চৌম্বকবিদ্যা
চৌম্বকবিদ্যা (Magnetism) হলো পদার্থবিজ্ঞানের একটি শাখা, যা চুম্বকের আকর্ষণ, বিকর্ষণ, চৌম্বক ক্ষেত্র এবং চৌম্বক পদার্থের ভৌত ধর্ম নিয়ে আলোচনা করে । এটি লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি পদার্থকে আকর্ষণ করে এবং এর উত্তর-দক্ষিণ মেরু থাকে । চলমান বৈদ্যুতিক চার্জ বা বিদ্যুৎ প্রবাহের কারণে এই ক্ষেত্র তৈরি হয় ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
চৌম্বক এবং চুম্বকত্ত্ব (Magnetism and Magnetism)
যে বস্তু চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করে ফলে অন্য একটি চুম্বক বা চৌম্বক পদার্থের উপর বল প্রয়োগ করে তাকে চুম্বক বলে। চুম্বকের দুইটি বিশেষ ধর্ম রয়েছে। যথা:
১) আকর্ষণী ধর্ম (Property of attraction)
২) দিক নির্দেশক ধর্ম (Property of direction): চুম্বক মুক্ত অবস্থায় সবসময় উত্তর-দক্ষিণ (North-South) দিক বরাবর থাকে। চুষ্কীয় কম্পাসের সাহায্যে সহজেই দিক নির্ণয় করা যায়।
পৃথিবী একটি বিরাট চুম্বক
১৬০০ খি. ড. গিলবার্ট প্রথম বলেন, পৃথিবীও একটি বিরাট চুম্বক। ভূ-চুম্বকের উত্তর মেরু ভৌগোলিক দক্ষিণ মেরু হতে ২২০০ কিমি. পশ্চিমে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের ভিক্টোরিয়া অঞ্চলে এবং ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু ভৌগোলিক উত্তর মেরু হতে ২৫০০ কিমি. দূরে কানাডার বুথিয়া উপদ্বীপে অবস্থিত।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পিতল
লৌহ
ইস্পাত
নিকেল
চৌম্বক পদার্থ (Magnetic material)
যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদের চুম্বকে পরিণত করা যায়, তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। যেমন: লোহা, লোহার যৌগ, লোহার সংকর ধাতু (যেমন- ইস্পাত), নিকেল এবং কোবাল্ট ইত্যাদি। যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না, তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। লোহা, ইস্পাত, নিকেল ও কোবাল্ট বাদে প্রায় সব অচৌম্বক পদার্থ। যেমনঃ সোনা, রূপা, তামা, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা, টিন ইত্যাদি।
ক্যাসেট প্লেয়ারের টেপে চৌম্বক পদার্থ (যেমন- CrO2) ব্যবহার করা হয়। ক্যাসেটের ফিতায় শব্দ চৌম্বক ক্ষেত্র হিসেবে রক্ষিত থাকে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ডায়াচুম্বকীয় পদার্থ
প্যারাচুম্বকীয় পদার্থ
ফেরো চুম্বকীয় পদার্থ
অ্যান্টিফেরো চুম্বকীয় পদার্থ
চুম্বকের প্রকারভেদ (Types of magnets)
অস্থায়ী চুম্বক: চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হওয়ার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয়, তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। সাধারণত কাঁচা লোহা, নিকেল ও লোহার সংকর ধাতু পারমালয় অস্থায়ী চুম্বক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। মটর, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহৃত হয়।
স্থায়ী চুম্বক: চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না, তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে ইস্পাত, এলনিকো সংকর, ফেরাইট নামক যৌগিক পদার্থ ব্যবহৃত হয়।

কলিং বেলে নরম লোহা ব্যবহার করা হয়, কারণ বিদ্যুৎ প্রবাহে নরম লোহা দ্রুত অস্থায়ী চুম্বকে পরিণত হতে পারে। টেপ রেকর্ডার এবং কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক ব্যবহৃত হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
Read more